আরও ছয়টি এ৩৫০-১০০০ কিনছে রিয়াদ এয়ার: মোট অর্ডার ৩১
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, July 21, 2026
ছবি: রিয়াদ এয়ার
সৌদি আরবের নতুন জাতীয় এয়ারলাইন্স রিয়াদ এয়ার আরও ছয়টি এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ উড়োজাহাজের অর্ডার চূড়ান্ত করেছে। এতে এই মডেলের উড়োজাহাজের জন্য প্রতিষ্ঠানটির মোট নিশ্চিত অর্ডার দাঁড়াল ৩১টিতে। সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে এয়ারবাস।
এয়ারবাস জানায়, ২০২৫ সালে ঘোষিত সর্বোচ্চ ৫০টি এ৩৫০-১০০০ উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই নতুন চুক্তি হয়েছে। সৌদি আরবের প্রথম এয়ারলাইন্স হিসেবে এ উড়োজাহাজ চালাতে যাচ্ছে রিয়াদ এয়ার।
ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নিয়ে দূরের রুটগুলোতে এই উড়োজাহাজ ব্যবহার করবে সংস্থাটি।
রিয়াদ এয়ারের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা আদম বুকাদিদা বিবৃতিতে বলেন, এই বাড়তি অর্ডার প্রমাণ করে প্রতিষ্ঠানের প্রবৃদ্ধি পরিকল্পনা এবং সৌদি আরবের বিমান খাতের ভবিষ্যতের ওপর তাদের আস্থা কতটা মজবুত।
তিনি বলেন, অর্ডার বেড়ে ৩১টিতে দাঁড়ানো প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হবে এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গন্তব্যে প্রিমিয়াম সেবা দেওয়ার পরিকল্পনাকেও এগিয়ে নেবে।
এয়ারবাস কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফটের বিক্রয় বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট বেনোয়া দ্য সাঁত-একজুপেরি বলেন, রিয়াদ এয়ারের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে পেরে তারা গর্বিত, কারণ প্রতিষ্ঠানটি সৌদি আরবের জন্য একটি পথিকৃৎ এয়ারলাইন্স গড়ে তুলছে।
তিনি বলেন, এই উড়োজাহাজের জ্বালানি সাশ্রয়, বেশি দূরত্ব উড়তে পারার ক্ষমতা এবং যাত্রীদের কাছে এর জনপ্রিয়তা রিয়াদ এয়ারের সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও এটি সহায়ক হবে।
এয়ারবাসের তথ্য অনুযায়ী, এ৩৫০-১০০০ কোথাও না থেমে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৭০০ নটিক্যাল মাইল বা ১৮ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নত নকশা, হালকা ওজনের উপকরণ এবং সর্বাধুনিক রোলস-রয়েস ইঞ্জিন।
এয়ারবাসের দাবি, আগের প্রজন্মের প্রতিদ্বন্দ্বী উড়োজাহাজের তুলনায় এটি জ্বালানি খরচ, পরিচালন ব্যয় ও কার্বন নির্গমন প্রায় ২৫ শতাংশ কমাতে পারে।
এই উড়োজাহাজে রয়েছে এয়ারবাসের নিজস্ব "এয়ারস্পেস" কেবিন, যা যাত্রীদের আরাম বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে তৈরি। এসব বৈশিষ্ট্য রিয়াদ এয়ারের প্রিমিয়াম সেবার ভাবমূর্তি জোরদার করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন নতুন গন্তব্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু ও সম্প্রসারণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই রিয়াদ এয়ার তাদের বহর গড়ে তুলছে। ভিশন ২০৩০-এর আওতায় সৌদি আরবের বিমান ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে এই এয়ারলাইন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এয়ারবাস জানায়, ২০২৬ সালের জুন মাস শেষে এ৩৫০ পরিবারের উড়োজাহাজের জন্য বিশ্বজুড়ে ৬৮টি গ্রাহকের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ৫৯৫টি নিশ্চিত অর্ডার পেয়েছে সংস্থাটি, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ওয়াইড বডির উড়োজাহাজের একটি বানিয়েছে।