বেসামরিক বিমান চলাচলে জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Sunday, June 21, 2026
ছবি: ওহিদুজ্জামান টিটু/এভিয়েশন এক্সপ্রেস
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত জাতীয় সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান (সিএএমপি) প্রণয়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
আজ রবিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে "Civil Aviation Master Planning Overview" শীর্ষক কর্মশালার মধ্য দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা হয়।
ICAO GOLD সনদপ্রাপ্ত সিভিল এভিয়েশন একাডেমি, বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তত্ত্বাবধানে এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (ICAO) কারিগরি সহায়তায় আয়োজিত এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার।
কর্মশালায় জানানো হয়, প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যানটি আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর বা তারও বেশি সময়ের জন্য দেশের বিমান চলাচল খাতের উন্নয়ন লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, এয়ার নেভিগেশন সেবার আধুনিকায়ন, এয়ারলাইন্স খাতের সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিতকরণসহ বিস্তৃত বিষয়গুলো এই পরিকল্পনার আওতায় থাকবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার 'সবার আগে বাংলাদেশ'-এর আলোকে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম এভিয়েশন হাবে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
এ লক্ষ্যে দেশব্যাপী আকাশপথ সংযোগ সম্প্রসারণ, প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিক লজিস্টিক ও যাত্রী পরিবহন কেন্দ্রে উন্নীত করা এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং নতুন বিমানবন্দর নির্মাণসহ চলমান প্রকল্পগুলো বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে সহায়ক হবে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে এ ধরনের কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিমন্ত্রি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য এবং এই কর্মশালা থেকে প্রাপ্ত দিকনির্দেশনা দেশের বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য, পর্যটন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বেবিচক এর সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ICAO এর বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এল আমিরি, যিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা নেই। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে মাস্টারপ্ল্যানটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্মশালায় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়, তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের শীর্ষ কর্মকর্তারা , বিমান চলাচল খাতের বিশেষজ্ঞবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন।