বিমানের ৩৫ উড়োজাহাজ ক্রয়ে স্বচ্ছতার অঙ্গীকার
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Monday, November 02, 2026
-সংগৃহীত
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়সহ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় কমিটির সদস্যরা এবং মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম, উড়োজাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদারের উপায় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। কমিটির সদস্যরা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার সব ক্রয়প্রক্রিয়া ও প্রকল্প গ্রহণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেন।
মন্ত্রী বলেন, "বিগত ২০ বছরে জবাবদিহির ধারাবাহিকতা না থাকায় পরিকল্পনাহীনভাবে নানা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার যেকোনো ক্রয়প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ।" মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের আধুনিকায়ন ও উড়োজাহাজ ক্রয় প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "সরকার বিমানকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। এখনই ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন না করলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিমান তীব্র উড়োজাহাজ সংকটে পড়বে।"
তিনি জানান, নতুন কেনা উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে প্রায় ১০ বছর সময় লাগবে। ততদিনে বর্তমান বহরের উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে গ্রাউন্ডেড হতে থাকবে। তাই সময়মতো ক্রয় নিশ্চিত করা জরুরি।
মন্ত্রী আরও বলেন, উড়োজাহাজ ক্রয়ে সরকারের সরাসরি কোনো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। "রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স নিজস্ব আয় থেকে পর্যায়ক্রমে এই অর্থ পরিশোধ করবে। সরকার কেবল গ্যারান্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।"
বিগত সরকারের আমলের অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি জানান, অতীতে যেসব অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করা হয়েছে, তার সঠিক তদন্ত করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতি বহাল থাকবে বলেও তিনি জানান। ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থ ও আর্থিক জবাবদিহি বিবেচনায় নিয়েই নিতে হবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
বগুড়ায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য প্রায় ২ হাজার একর জমি প্রয়োজন। ওয়াইড বডি উড়োজাহাজ ওঠানামার উপযোগী রানওয়ে তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ সময় মন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।