বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন চুক্তি: আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Thursday, September 24, 2026
ছবি : বোয়িং
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ নিয়ে চলতি বছর বোয়িংয়ের সঙ্গে জাতীয় পতাকাবাহী এই এয়ারলাইন্সের মোট অর্ডার দাঁড়াল ২৫টিতে।
বোয়িং জানিয়েছে, সম্পূরক চুক্তির আওতায় পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কেনা হবে। এর আগে ৩০ এপ্রিল বিমান ১৪টি উড়োজাহাজের অর্ডার দিয়েছিল, যাকে বোয়িং প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অর্ডার বলে বর্ণনা করেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন বিমানের বোর্ড চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন।
রুমী এ হোসেন বলেন, “আজকের এই সম্পূরক চুক্তি বিমানের চলমান বহর নবায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আমাদের বহর পরিকল্পনার নির্দিষ্ট চাহিদা মেটাতেই এই অর্ডার দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর বোয়িংয়ের সঙ্গে আমাদের দলের কাজের সম্পর্ক থাকায় উড়োজাহাজ সরবরাহ ও সহায়তা ব্যবস্থার বিষয়ে আমরা আস্থা পেয়েছি।”
তিনি বলেন, জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স হিসেবে দেশের মানুষ, প্রবাসী সম্প্রদায়, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের ভ্রমণ চাহিদা মেটাতে বিমান তার নেটওয়ার্ক ও সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, “আগামী বছরগুলোতে দেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদার করার একটি বৃহত্তর ও সুবিবেচিত পরিকল্পনার একটি অংশ এই চুক্তি”।
চুক্তি সইয়ের সময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এবং ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ।
নতুন এই অর্ডারসহ চলতি বছর বিমানের মোট অর্ডারে থাকছে ১৩টি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ ও ১০টি ৭৩৭-৮। এপ্রিলের প্যাকেজের দাম ছিল প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার। সেই প্যাকেজে ছিল আটটি ৭৮৭-১০, দুটি ৭৮৭-৯ ও চারটি ৭৩৭-৮। ওই চুক্তির আওতায় উড়োজাহাজ পাওয়ার কথা ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে।
অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজের দাম, অর্থায়নের ব্যবস্থা কিংবা সরবরাহের সময়সূচি বিমান বা বোয়িং কেউই জানায়নি। এসব শর্তের ওপরই নির্ভর করবে বাড়তি এই প্রতিশ্রুতির আর্থিক পরিধি এবং কবে থেকে উড়োজাহাজগুলো সক্ষমতা বাড়াতে শুরু করবে।
ব্র্যাড ম্যাকমুলেন বলেন, বাড়তি ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ বিমানের প্রবৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, বহুমুখী ব্যবহার ও নির্ভরযোগ্যতা দেবে। বোয়িং জানিয়েছে, ৭৮৭-১০ বিমানের দীর্ঘ পথের বহরে ধারণক্ষমতা বাড়াবে, আর ৭৩৭-৮ সিঙ্গেল-আইল নেটওয়ার্কে বাড়তি রেঞ্জ দেবে।
এ চুক্তি এমন সময়ে হলো, যখন বিমান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আলাদা একটি প্রস্তাবও বিবেচনা করছে। প্রস্তাবে আছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি ও ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। এই কেনাকাটা এগোলে বোয়িং ও এয়ারবাসের প্যাকেজ মিলিয়ে ৩৫টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকবে। অথচ এয়ারলাইন্সটির বর্তমান বহরে উড়োজাহাজ আছে ১৯টি।
এই কর্মসূচির আকার বিবেচনায় এর ব্যয়, সরবরাহের সময়সীমা ও বহরের সহায়তা কাঠামো নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে। এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনা হলে দুই নির্মাতার উড়োজাহাজের জন্য প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশের পরিকল্পনাও বিমানকে করতে হবে।
অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমীন বলেন, বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক রুট চালু করতে বাংলাদেশের নতুন উড়োজাহাজ দরকার। দেশের চাহিদা অনুযায়ীই উড়োজাহাজ কেনা হবে বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে যোগ করেন উপদেষ্টা।
উপদেষ্টার তথ্য অনুযায়ী, পরে বোয়িংয়ের প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
নতুন এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হতে কয়েক বছর লেগে যাবে। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সক্ষমতার চাহিদা মেটাতে ২০২৭ সালের মধ্যে ১০টি পর্যন্ত উড়োজাহাজ ভাড়া (লিজ) নেওয়ার পরিকল্পনা আছে বলে সরকার জানিয়েছে। এ ছাড়া ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার একটি রোডম্যাপও সরকার পর্যালোচনা করেছে।