Logo
এয়ারলাইন্স এয়ারপোর্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স পর্যটন হোটেল প্রবাস লাইফস্টাইল কর্পোরেট রেগুলেটরস মুখোমুখি

Aviation Express

ঢাকা বিমানবন্দরের লাউঞ্জে কোন মানের খাবার পরিবেশন করা হয়?

ডেস্ক রিপোর্ট | Published: Saturday, February 14, 2026
ঢাকা বিমানবন্দরের লাউঞ্জে কোন মানের খাবার পরিবেশন করা হয়?

ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (ঢাকা বিমানবন্দর) বর্তমানে ছয়টি প্রিমিয়াম লাউঞ্জ চালু রয়েছে। এসব লাউঞ্জে আন্তর্জাতিক মানের খাবার ও সেবা দেওয়া হয়। দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার মতো পাঁচ তারকা হোটেল থেকেই এখানকার খাবার সরবরাহ করা হয়।


‘ডা. ফুডি’ (Dr. Foodie) নামক ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে পরিচিত ফুড ভ্লগার সাগর রশিদ বৃহস্পতিবার আপলোড করা এক ভ্লগে এসব তথ্য তুলে ধরেন।


মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পরিচালিত এমটিবি এয়ার লাউঞ্জে সকালের নাস্তায় থাকে পরোটা, ফ্রেঞ্চ টোস্ট, ভুনা খিচুড়ি, ডিম, সবজি, সসেজ, প্যানকেক, সালাদ, কেক, বাটার, জ্যাম, কফি ও জুস। প্রবেশপথে কোন কোন ক্রেডিট কার্ড থাকলে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে তা দেখা যায়।


বিমানবন্দরের সবচেয়ে বড় লাউঞ্জ ইবিএল স্কাই লাউঞ্জে খাবার সরবরাহ করে ওয়েস্টিন হোটেল। সকালের মেনুতে থাকে সালাদ, পরোটা, সবজি, স্ক্র্যাম্বলড এগ, ব্রেড, কর্নফ্লেক্স, ডিম, বিফ ভুনা, খিচুড়ি, চিকেন সসেজ, ফল ও ডেজার্ট। পানীয় অংশে সফট ড্রিংকস, জুস ও কফি পাওয়া যায়।


নামাজের স্থান, অপেক্ষা করার কক্ষ, বসার জায়গা এবং বই পড়ার কর্নার রয়েছে। তবে এখানে নির্ধারিত স্মোকিং জোন রয়েছে। এতে করে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২০২৫ সনের ৮০ নং অধ্যাদেশ ) অনুযায়ী, ২০০৫ সনের ১১নং আইনের সংশোধিত ধারা ২ এর লঙ্ঘন করা হয়।


সকাল ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত নাস্তা পরিবেশন করা হয়। এরপর শুরু হয় দুপুরের খাবার। সাগর খিচুড়িকে ‘নরম ও সুস্বাদু’ বলে প্রশংসা করেন।


ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য ইউবি ইম্পেরিয়াল লাউঞ্জ রয়েছে। এখানেও ওয়েস্টিনের খাবার পরিবেশন করা হয়। তবে স্থান তুলনামূলক ছোট। লাউঞ্জের ভেতরে ভিডিও ধারণে বিধিনিষেধ থাকলেও ছবি তোলার অনুমতি রয়েছে।


সিটি ব্যাংকের আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডধারীদের জন্য এমেক্স প্লাটিনাম লাউঞ্জে প্রবেশাধিকার রয়েছে। এখানে শিশু যত্ন কক্ষ, ছোট লাইব্রেরি, ব্যবসা কেন্দ্র, নামাজের স্থান ও ওয়াশরুম রয়েছে। খাবারের অংশে কন্টিনেন্টাল আইটেম থাকে, যা সরবরাহ করে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল। ডেজার্ট ও পানীয় স্টেশনও রয়েছে।


বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করে বলাকা লাউঞ্জ, যা মাসলিন লাউঞ্জ নামেও পরিচিত। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের খাবার পরিবেশন করা হয় সেখানে। সন্ধ্যার মেনুতে পোলাও, চিকেন ও বিফের মতো ভারী খাবারও থাকে। ফুড ভ্লগার সাগর পোলাওয়ের স্বাদের বেশ প্রশংসা করেন।


এছাড়া সিটি ব্যাংকের আমেরিকান এক্সপেসের আলাদা ব্যবস্থাও একই স্থানে রয়েছে।


বর্তমানে ক্রেডিট কার্ড সুবিধা শুধু লাউঞ্জে প্রবেশ করার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক ব্যাংক বিমানবন্দর পিক অ্যান্ড ড্রপসহ বাড়তি সুবিধাও দিচ্ছে। তাই নতুন কার্ড নেওয়ার আগে লাউঞ্জ সুবিধা রয়েছে কিনা তা যাচাই করা প্রয়োজন।


তুলনামূলক মূল্যায়নে দেখা গেছে, খাবারের মান ও স্বাদের দিক থেকে ঢাকার বিমানবন্দরের লাউঞ্জ অনেক আন্তর্জাতিক লাউঞ্জের চেয়েও উন্নত। ফুড ভ্লগার সাগর বিভিন্ন দেশের লাউঞ্জ ঘুরে দেখার পর নিজ দেশের লাউঞ্জকে রেটিংয়ে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে রেখেছেন।


সাধারণত সকালে সব লাউঞ্জেই নাস্তা পরিবেশন করা হয়। দুপুরে মেনু পরিবর্তন করা হয়। আসনসংখ্যার দিক থেকে ইবিএল স্কাই লাউঞ্জ সবচেয়ে বড়, আর ইউবি ইম্পেরিয়াল তুলনামূলকভাবে ছোট।


প্রতিটি লাউঞ্জে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মূল খাবার, কন্টিনেন্টাল আইটেম, পানীয়, ডেজার্ট ও ফলের আলাদা কর্নার রাখা হয়। যাত্রীদের সুবিধার্থে নামাজের স্থান ও ব্যবসায়িক সুযোগও রাখা হয়েছে।


সব লাউঞ্জে প্রবেশাধিকার নির্দিষ্ট ক্রেডিট কার্ডের ওপর নির্ভরশীল। প্রবেশাধিকারের তথ্য প্রতিটি লাউঞ্জের সামনে দেখা যায়।


ঢাকা থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করবে এমন যাত্রীদের খাবার, পানীয় ও আরামদায়ক সেবা দিয়ে বিমানবন্দরে তাদের উন্নত অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই এসকল লাউঞ্জের লক্ষ্য।

Make Comment

Login to Comment
Leaving AviationExpress Your about to visit the following url Invalid URL

Loading...
Comments


Comment created.

Related News