ঢাকা–নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট আগামী বছর চালুর লক্ষ্য
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
| Published: Wednesday, September 16, 2026
আগামী বছর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (JFK) বিমানবন্দরে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন, আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং বিমান ও পর্যটন খাতে মার্কিন বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের নিজ কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাক্ষাতে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকার একটি এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কাজ করছে।
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার অগ্রযাত্রায় সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অত্যাধুনিক এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উদ্বোধন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে বিশ্বখ্যাত লিগ্যাসি এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মিল্লাত। এর অংশ হিসেবে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তবে বোয়িং কোম্পানির তৈরি উড়োজাহাজগুলোর ডেলিভারি দ্রুত করা অত্যন্ত জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন সেফটি এসেসমেন্ট (আইএএসএ) ক্যাটাগরি ১ - (FAA) International Aviation Safety Assessment (IASA) Category 1 - মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিকের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে আগামী বছর ঢাকা–নিউইয়র্ক (JFK) রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
পর্যটন খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ একটি দেশ। তাঁর দাবি, বিগত সরকার পর্যটন খাতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
বর্তমান সরকার দেশের ১,৪৯৮টি পর্যটন স্পটকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে বলেও জানান তিনি।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন হাব হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রদূত।
ক্রিস্টেনসেন আরও বলেন, বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী। ঢাকা–নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের প্রচারে রাষ্ট্রদূতের বিভিন্ন পর্যটন স্পট সফরের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।