শাহজালাল বিমানবন্দরে বিস্ফোরক শনাক্তকারী যন্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Tuesday, September 08, 2026
ছবি: বেবিচক
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন ২৫টি এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইটিডি) যুক্ত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। NUCTECH TR2000DC মডেলের এই যন্ত্রগুলো পরিচালনার জন্য এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)-এর নির্বাচিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সম্প্রতি একটি স্থানীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যন্ত্রের মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন, যেখানে অংশ নেন মোট ৪৪ জন এভসেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। প্রশিক্ষণে তাঁদের যন্ত্র সঠিকভাবে পরিচালনা, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং অপারেশনাল নিরাপত্তা সম্পর্কে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সোমবার বেবিচক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
NUCTECH TR2000DC একটি আধুনিক ট্রেস ডিটেকশন প্রযুক্তি, যা অতি সামান্য পরিমাণে থাকা বিস্ফোরক ও অবৈধ মাদকজাতীয় পদার্থও শনাক্ত করতে সক্ষম। যন্ত্রটি আয়ন মোবিলিটি স্পেকট্রোমেট্রি (আইএমএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং এতে অ-তেজস্ক্রিয় আয়নীকরণ উৎস ব্যবহৃত হয়। ফলে যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে থাকা অতি ক্ষুদ্র মাত্রার সন্দেহজনক পদার্থ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
বেবিচক বলছে, শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তির সংযোজনের ফলে বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণের সক্ষমতা বাড়বে, নিরাপত্তা তল্লাশির কার্যকারিতা উন্নত হবে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও দ্রুত চিহ্নিত করা যাবে। একই সঙ্গে এটি প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে বিমানবন্দরের বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসছে নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটের প্রেক্ষাপটে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আধুনিক ইটিডি প্রযুক্তির সংযোজন এবং সংশ্লিষ্ট এভসেক জনবলের দক্ষতা উন্নয়ন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।
আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর নিরাপত্তা প্রক্রিয়ার সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে বেবিচক।
বেবিচকের ভাষ্য, বিমানবন্দর নিরাপত্তায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশের সামগ্রিক বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
শাহজালাল বিমানবন্দরের পর চট্টগ্রামের শাহ আমানত, সিলেটের ওসমানী এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ধাপে ধাপে একই ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বেবিচক জানিয়েছে, দেশের বিমানবন্দরসমূহের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।