এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্ঘটনার এক বছর, চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশে হতে পারে বিলম্ব
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, June 11, 2026
আগামীকাল এক বছর পূর্ণ হবে এয়ার ইন্ডিয়ার প্রাণঘাতী বোয়িং ৭৮৭ বিমান দুর্ঘটনার। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, দুর্ঘটনার এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা। তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক সূত্র জানিয়েছে, ইঞ্জিনগুলোর বিশ্লেষণ অসম্পূর্ণ থাকায় তদন্তকারীরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব করতে পারেন।
২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়, যা গত দশকের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক বিমান দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনার তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জিই অ্যারোস্পেস নির্মিত ইঞ্জিনগুলো। এই দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হন।
গত বছর প্রকাশিত একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৭৮৭ বিমানটির ইঞ্জিন ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচগুলো প্রায় একই সাথে "রান" থেকে "কাটঅফ"-এ চলে যায়, যার ফলে বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই উভয় ইঞ্জিনেই জ্বালানির সংকট দেখা দেয়।
তথ্যটি প্রকাশ্য না হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সূত্রটি রয়টার্সকে জানিয়েছে, তদন্তকারীরা এপ্রিলে ইঞ্জিন পরীক্ষা চালিয়েছেন এবং ইঞ্জিন ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের বিশ্লেষণের অংশ হিসেবে গত মাসে ফ্রান্স সফর করেছেন।
গত বৃহস্পতিবারের আগে ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছিল যে, পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো ইঞ্জিনগুলোর সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে দুর্ঘটনা সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, দুর্ঘটনার এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা, কিন্তু কখনও কখনও তদন্তে আরও বেশি সময় লাগে। তাই যদি তা শেষ না হয়, তবে প্রতিটি বার্ষিকীতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দিতে হয়।
রয়টার্সের তথ্যমতে, ভারতীয় কর্মকর্তারা প্রথম বার্ষিকীর আগেই চূড়ান্ত প্রতিবেদনের পরিবর্তে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রস্তুত করছেন, কারণ তদন্তটিকে জটিল এবং সময়সাপেক্ষ বলে মনে করা হচ্ছে।
এএআইবি, ভারতের বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়, এয়ার ইন্ডিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড, বোয়িং এবং জিই অ্যারোস্পেস মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
পাইলটের কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে
গত বছর রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এয়ার ইন্ডিয়ার ৭৮৭ বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এর দুই পাইলটের ককপিটে হওয়া কথোপকথনের একটি রেকর্ডিং থেকে এই ধারণাই সমর্থিত হয়েছে যে, ক্যাপ্টেন ইঞ্জিনগুলোতে জ্বালানির সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এএআইবি তখন বলেছিল, "চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো হয়নি।"
ক্যাপ্টেনের বাবা ভারতের শীর্ষ আদালতকে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিতে বলেছেন, যেখানে পাইলটের ইচ্ছাকৃত কার্যকলাপ ছাড়া অন্যান্য কারণগুলোও বিবেচনা করা হবে। পাইলটের ইচ্ছাকৃত কার্যকলাপকে এর আগেও কিছু প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনায় সন্দেহ করা হয়েছে এবং ২০১৫ সালে জার্মানউইংসের ঘটনায় তা নিশ্চিত হয়েছিল।
রয়টার্সের দেখা একটি চিঠি অনুযায়ী, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস ৫ জুন ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছে।
পাইলটদের দলটি তদন্তকারীদের কাছে বোয়িং এবং এয়ার ইন্ডিয়ার কাছ থেকে বিমানটি সম্পর্কে আরও প্রযুক্তিগত তথ্য চাওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে, যাতে "এএআইবি দ্বারা খতিয়ে দেখা পাইলটের আত্মহত্যার তত্ত্বটি খণ্ডন করা যায়।"
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বোয়িং বা জিই-কে কোনো নিরাপত্তা সুপারিশ করা হয়নি, যা থেকে বোঝা যায় যে সেই সময়ে কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যা আবিষ্কৃত হয়নি।
এটি ২০১১ সাল থেকে চালু হওয়া বোয়িং-এর ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের প্রথম দুর্ঘটনা।
সূত্র: রয়টার্স