হজযাত্রীদের সৌদি আরবের বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান মন্ত্রণালয়ের
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Thursday, May 07, 2026
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি আরব কর্তৃক প্রণীত হজের বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।
আজ মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় বলা হয়, অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে এবং হজযাত্রীদের সুরক্ষার জন্য সৌদি সরকার ইদানীং কঠোর শাস্তিযুক্ত নতুন বিধিমালা আরোপ করেছে।
নির্দেশনায় সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া বাংলাদেশিদের হজ পালন না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। ১৪৪৭ হিজরির হজ উপলক্ষে যারা সরকারি অনুমতিপত্র ছাড়া হজ পালনের চেষ্টা করছে তাদের জন্য কঠোর শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি সরকার এবং কঠোর বিধিমালা প্রণয়ন করেছে।
বিধিমালা অনুযায়ী, সৌদিতে বিদেশি বসবাসকারীরা বিধি ভঙ্গ করলে দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে এবং দেশটিতে ১০ বছরের জন্য পুনরায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হতে পারে।
সৌদির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালায় ঘোষণা করেছে, বৈধ অনুমোদন ছাড়া কেউ হজ পালনে ধরা পড়লে ২০,০০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা হতে পারে। অবৈধ হজযাত্রীদের কেউ পরিবহন, আবাসন বা সহায়তা প্রদান করলে ১০০,০০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা হবে।
ঘোষণায় আরো বলা হয়েছে, অপরাধীর সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে জরিমানা বাড়তে পারে। এই বিধান ট্রাভেল এজেন্সি, আবাসন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, যানবাহনের মালিক এবং এমনকি লঙ্ঘনকারীদের আশ্রয় প্রদানকারী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
সৌদি মন্ত্রণালয় এ বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছে যে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এ ধরনের কার্যক্রমে ব্যবহৃত যানবাহনগুলো বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, কেবল সরকারিভাবে অনুমোদিত হজযাত্রীরা মক্কা এবং অন্যান্য নির্ধারিত পবিত্র স্থানসমূহে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, বিধিনিষেধগুলো জিলকদ মাসের প্রথম দিন থেকে জিলহজ মাসের ১৪ তারিখ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বৈধ হজের অনুমতিপত্র না থাকলে, ভিজিট ভিসা বহনকারী ব্যক্তিদের মক্কায় প্রবেশ বা অবস্থান করা নিষিদ্ধ।
সৌদি সরকার নাগরিক, বাসিন্দা এবং সকল ভিসা-ধারীদের বিধিবিধানগুলো কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। জনসাধারণকে নির্ধারিত জরুরি নম্বরগুলোর মাধ্যমে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা রিপোর্ট করতেও উৎসাহিত করেছে। প্রধান অঞ্চলগুলোর জন্য ৯১১ এবং অন্যান্য স্থানের জন্য ৯৯৯।
আইন প্রয়োগ ইতিমধ্যেই চলমান। সম্প্রতি কর্তৃপক্ষ মক্কায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে, যার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া হজ পারমিটের প্রচার চালানোর অভিযোগ রয়েছে।