ইউরোপে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট ফুয়েল মজুদ অবশিষ্ট, বিমান চলাচলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Friday, April 17, 2026
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে মাত্র ছয় সপ্তাহের জেট ফুয়েল মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শিগগিরই মহাদেশটিতে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল।
প্যারিসে এপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুর্কি এই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ আটকে যাওয়ায় বিশ্ব এখন "সর্বকালের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের" মুখে পড়েছে।
বিরোল বলেন, "হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে শিগগিরই আমরা শুনব যে অমুক শহর থেকে তমুক শহরের ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাচ্ছে।"
এই সংকটের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সুষমভাবে পড়বে না জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দরিদ্র দেশগুলোকেই সবচেয়ে বেশি মাশুল গুনতে হবে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "কোনো দেশই এই সংকট থেকে নিরাপদ নয়।"
বিশ্বের মোট পরিবহন করা তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করে। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ১১০টিরও বেশি তেলবাহী ট্যাংকার ও ১৫টির বেশি তরলীকৃত গ্যাসবাহী জাহাজ প্রণালী পেরোতে পারছে না। বিরোল জানান, এগুলো বাজারে পৌঁছালে কিছুটা স্বস্তি মিলত, তবে তাও যথেষ্ট হতো না।
মে মাসের শেষ নাগাদ প্রণালী না খুললে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো তীব্র মূল্যস্ফীতি থেকে মন্দার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে তিনি সরকারপ্রধানদের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে বিরোল জানান, উপসাগলীয় অঞ্চলের ৮০টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশ মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত। যুদ্ধপূর্ব উৎপাদন মাত্রায় ফিরে আসতে দুই বছর পর্যন্ত লাগতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ইরানের আরোপিত "টোল" ব্যবস্থার — যেখানে অর্থের বিনিময়ে কোনো কোনো জাহাজকে প্রণালী পার হতে দেওয়া হচ্ছে — তীব্র সমালোচনা করে বিরোল সতর্ক করেন, এটি নজির হিসেবে দাঁড়ালে ভবিষ্যতে মালাক্কা প্রণালীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও একই সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সূত্র: এপি