জাতীয় জাদুঘরে তাদাও আন্দোর নকশায় হবে শিশু গ্রন্থাগার, দ্রুত বাস্তবায়নে জাপানের আশ্বাস
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, July 07, 2026
-কোলাজ ছবি।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে বিশ্বখ্যাত জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর নকশায় নির্মিত হতে যাওয়া আধুনিক শিশু গ্রন্থাগারের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জাপান। মঙ্গলবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সৌজন্য সাক্ষাতে এই আশ্বাস দেওয়া হয়।
সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান দেশের অন্যতম বিশ্বস্ত ও প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের এই সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক বন্ধনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় জাপানের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি। ১৯৮২ সালে ঢাকায় স্বাক্ষরিত সাংস্কৃতিক চুক্তি এবং ২০০৫ সালে টোকিওতে স্বাক্ষরিত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির (সিইপি) কথা স্মরণ করে মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বর্তমান সরকারের কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ২০০৫ সালের কর্মসূচিটি নবায়নে কূটনৈতিক পর্যায়ে যৌথভাবে কাজ করার প্রস্তাব দেন তিনি।
বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায় জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে তাদাও আন্দোর নকশায় নির্মাণাধীন শিশু গ্রন্থাগারের অগ্রগতি প্রসঙ্গ। ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সংশ্লিষ্ট সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী এই উদ্যোগের জন্য স্থপতি তাদাও আন্দো ও জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, গ্রন্থাগারটি দুই দেশের বন্ধুত্বের চিরস্থায়ী প্রতীক হয়ে থাকবে এবং শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর দ্রুত সমাপ্তিতে দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
জবাবে রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোকশিল্প ও চারুকলার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে জাপানের অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, জাদুঘর আধুনিকায়ন, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল ও শিল্পী বিনিময় এবং গ্রন্থাগার-আর্কাইভ খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
বৈঠকে সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকাস্থ জাপানি দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা শেষে উভয় পক্ষ শুভেচ্ছা উপহার ও ক্রেস্ট বিনিময় করেন।