অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করলে ফেরত পাঠানো হবে: দূতাবাস
ঢাকাস্থ ইতালীয় দূতাবাস বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অভিবাসন পথ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং মানব পাচারকারীদের ওপর নির্ভর না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে।
সোমবার দূতাবাসের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লিবিয়া বা অন্য কোনো ট্রানজিট দেশ থেকে অবৈধভাবে আসা অভিবাসীদের আর ইতালিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদের সীমান্তেই আটক করে ফেরত পাঠানো হবে। তারা দেশটিতে বসবাস বা কাজ করার অনুমতি পাবেন না।
১২ জুন থেকে কার্যকর হওয়া ইউরোপীয় আশ্রয় ও অভিবাসন বিষয়ক নতুন বিধিমালার প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সম্ভাব্য অভিবাসীদের উদ্দেশে দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে, যারা স্বেচ্ছায় অর্থ দিয়ে পাচারকারীদের মাধ্যমে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তারা মানব পাচারের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন এবং অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
ইউরোপে প্রবেশের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া পাচারকারী ও অপরাধী চক্রের খপ্পরে না পড়ার জন্যও বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।
একই সঙ্গে দূতাবাস জানিয়েছে, বৈধ পথে অভিবাসনের সুযোগ এখনো উন্মুক্ত রয়েছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালে ইমিগ্রেশন বিধি মেনে চলা হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে কাজ, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং পড়াশোনার ভিসা দেওয়া হয়েছে।
ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় অব্যাহত অনিয়মিত অভিবাসন প্রবাহের মুখে ইউরোপীয় দেশগুলো অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করছে এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার করছে।
উত্তর আফ্রিকা, বিশেষত লিবিয়া থেকে ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে ইতালি বরাবরই অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। এ কারণে দেশটির পরপর সরকারগুলো অননুমোদিত প্রবেশ কমাতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও চুক্তির পথে এগিয়েছে।
বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানব পাচারবিরোধী প্রচারণা জোরদার হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এবং বিদেশি মিশনগুলো বারবার নাগরিকদের পাচার চক্রের সহায়তায় এই বিপজ্জনক যাত্রা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছে।