ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমির নতুন প্রেসিডেন্ট নাসির মজুমদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Friday, October 09, 2026
দেশের অন্যতম প্রাচীন বৈমানিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড জেনারেল এভিয়েশন লিমিটেডের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী ও নীতিবিশ্লেষক এম. জি. আর. নাসির মজুমদার সিআইপি।
গত ২৯ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) তাঁর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক পত্রে কমিটির সদস্যদের নাম ও পদবি প্রকাশ করা হয়।
কমিটিতে তিনজন ভাইস প্রেসিডেন্ট রয়েছেন। অপারেশনস, একাডেমিকস ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দায়িত্বে আছেন ইঞ্জিনিয়ার নাসিরউদ্দিন আহমেদ। প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্ব পেয়েছেন ক্যাপ্টেন আবু সাফা। আর বিনোদন ও সুযোগ-সুবিধা বিভাগের দায়িত্বে আছেন রাজী হায়দার রিজভী।
সেক্রেটারি জেনারেল নির্বাচিত হয়েছেন ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ। যুগ্ম সম্পাদক হয়েছেন ক্যাপ্টেন জাকারিয়া।
নির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন ক্যাপ্টেন সেলিমুর রহমান, ক্যাপ্টেন মীর কামার সিদ্দিক, ক্যাপ্টেন ইথার ফারিয়েল, ক্যাপ্টেন রফিকুর রহমান ও ক্যাপ্টেন ফেদিয়া।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ৭৮ বছরের। এটি একসময় ইস্ট পাকিস্তান ফ্লাইং ক্লাব নামে পরিচিত ছিল, পরে নাম হয় বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাব। দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও বৈমানিক প্রশিক্ষণ খাতের বিকাশের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহাসিকভাবে জড়িয়ে আছে।
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নাসির মজুমদার সেঞ্চুরি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আবাসন, তৈরি পোশাক, কৃষি, পর্যটন ও আতিথেয়তাসহ নানা খাতে তাঁর ব্যবসা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃত্বও দিয়ে আসছেন।
ব্যবসা-বাণিজ্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সরকারের বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) ২০২১ সম্মাননা পেয়েছেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৮ সালের প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কারে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
তিনি দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক, গুলশান সোসাইটির সাবেক সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
দেশের ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন শিল্পে দক্ষ বৈমানিকের চাহিদা পূরণ, আধুনিক প্রশিক্ষণব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং জেনারেল এভিয়েশন খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য বৈমানিক পেশায় প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং নিরাপদ ও দক্ষ আকাশপথ ব্যবস্থা গড়ে তোলায় নতুন কমিটি ভূমিকা রাখবে বলেও প্রত্যাশা রয়েছে।
প্রায় আট দশকের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানকে আধুনিক, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানের বৈমানিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো।