আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: জাকার্তা বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Sunday, September 06, 2026
ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে রোববার ভোরে অগ্ন্যুৎপাত ঘটার পর দেশটির রাজধানী জাকার্তার সোয়েকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। পশ্চিম ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আগ্নেয়গিরির ছাই ছড়িয়ে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এপি।
ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানায়, জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝে সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত আগ্নেয়গিরিটি শনিবার থেকেই সক্রিয় হয়ে উঠছিল এবং রোববার ভোর ৩টা ৫৩ মিনিটে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো এলাকা খালি করার নির্দেশও দেওয়া হয়নি। আগ্নেয়গিরির নিকটতম জনবসতি এর থেকে ১৬ কিলোমিটারের (১০ মাইল) বেশি দূরে অবস্থিত। তবে সংস্থাটি বাসিন্দা ও পর্যটকদের আগ্নেয়গিরির সক্রিয় জ্বালামুখ থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার (১.৯ মাইল) দূরে থাকার সতর্কতা জারি করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি ও ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগ প্রশমন কেন্দ্র জানায়, রাজধানী জাকার্তা ও সুমাত্রা দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত লাম্পুং প্রদেশের বিভিন্ন অংশে আগ্নেয়গিরির ছাই ছড়িয়ে পড়েছে।
সোয়েকার্নো-হাত্তা বিমানবন্দর রোববার ভোরে এক ভ্রমণ পরামর্শে বলে, আনাক ক্রাকাতাউ পর্বতের অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট বর্ধিত কার্যক্রমের কারণে বিমানবন্দরে সকাল সাড়ে ৫টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
দেশটির সবচেয়ে ব্যস্ত এই বিমানবন্দরে যাত্রীরা টিকিটের অর্থ ফেরত চাইতে এবং চেক-ইন করা লাগেজ ফেরত নিতে ভিড় জমান, আর প্রস্থানের বোর্ডে বাতিল ফ্লাইটের তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হতে দেখা যায়।
ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি সংস্থা এবং অস্ট্রেলিয়ার ডারউইন আগ্নেয়গিরি ছাই পরামর্শ কেন্দ্র উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে দুটি ছাইয়ের মেঘ শনাক্ত করেছে। এর একটি ২০ হাজার ফুট (৬ হাজার ১০০ মিটার) উচ্চতায় উঠে উত্তর-পূর্ব দিকে সরে যাচ্ছে, যা জাকার্তা, বান্তেন, পশ্চিম জাভা ও আশপাশের জলসীমাকে প্রভাবিত করছে।
দ্বিতীয় মেঘটি ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার ২০০ মিটার) উচ্চতায় পৌঁছে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরছে, যা বান্তেন, লাম্পুং ও বেংকুলু প্রদেশ, সুন্দা প্রণালীর দক্ষিণাংশ এবং সুমাত্রার পশ্চিমে ভারত মহাসাগরের কিছু অংশ ছেয়ে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউর বিস্ফোরক ধসের ফলে সৃষ্ট সুনামিতে সুমাত্রা ও জাভায় অন্তত ৪৩০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র: এপি (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস)