সাইপ্রাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অপহরণ: মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যা তদন্ত শুরু
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, June 22, 2026
সাইপ্রাসে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ২২ বছর বয়সী শাহরিয়ার আহমেদ ইমন কে খোঁজার নয় দিনের অনুসন্ধান এক মর্মান্তিক পরিণতিতে শেষ হয়েছে। অপহরণের দায় স্বীকার করে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশকে সেই স্থান দেখিয়ে দিলে কফিনু অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রের কাছে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা ইমনের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফিলেনিউজ জানিয়েছে, লারনাকা ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ইমনের অপহরণের ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের পর রোববার তাকে গ্রেপ্তার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পুলিশকে কোফিনু অভিবাসী গ্রহণকেন্দ্র ও একটি স্থানীয় কসাইখানার কাছাকাছি একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান। সেখানে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বর্তমানে ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইমন লারনাকার ওরোকলিনি এলাকায় নিজের বাসা থেকে বের হন। তিনি রুমমেটদের জানিয়েছিলেন, কোফিনুর একটি কারখানায় চাকরির প্রথম দিনে যোগ দিতে যাচ্ছেন।
সেদিন রাতেই তিনি এক বন্ধুর কাছে নিজের অবস্থানসংবলিত একটি ডিজিটাল লোকেশন পাঠান। তবে এর কিছুক্ষণ পরই তার মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক মোড় নেয়, যখন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গ্রিসে অবস্থানরত ইমনের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে।
রোববারের গ্রেপ্তারের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুক্তিপণ দাবির বার্তা প্রকাশ পায়। সেখানে প্রথমে ১০ হাজার ইউরো এবং পরদিন আরও ২৫ হাজার ইউরো দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, পুলিশকে জানানো হলে ‘আর কখনো তার মুখ দেখতে পারবেন না’।
ইমনের নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পুলিশ তার ছবি প্রকাশ করে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছিল।
তদন্তকারীরা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মুক্তিপণের বার্তাগুলোর সত্যতা যাচাই করছেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে।
সূত্র: ফিলেনিউজ (Philenews)