দক্ষ জনশক্তি গড়তে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
| Published: Monday, August 10, 2026
ছবি: বৃটিশ হাইকমিশন
শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার ঢাকায় নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইংরেজি ভাষা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহায়তা চেয়েছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণেও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি এফসিডিও, আইএলও ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারিত্বে চলমান ‘রাইজ’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এ ছাড়া দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের ওপরও জোর দেন তিনি।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মী বিদেশে পাঠানো হলে তরুণরা বৈধ পথে অভিবাসনে আরও উৎসাহিত হবেন।
সাক্ষাতে হাই কমিশনার সারাহ কুক জানান, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাজ্য।
তিনি বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসন নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগের কথা জানান এবং অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দেন। গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন বাস্তবায়নেও সহযোগিতার তথ্য জানান তিনি।
অনিয়মিত অভিবাসন প্রসঙ্গে হাই কমিশনার বলেন, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে সেদেশের সরকার ও জনগণ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচ দেশের একটি বাংলাদেশ; সম্প্রতি করা আবেদনগুলোর মধ্যে অল্প সংখ্যক মঞ্জুর হয়েছে এবং বাকিদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
তিনি জানান, আবেদন নামঞ্জুর হওয়া কেউ স্বেচ্ছায় ফিরতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, তবে আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে এই সুবিধা মেলে না।
সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাই কমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।