মিসরাতার মেয়রের সাথে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Wednesday, April 15, 2026
ছবি: দূতাবাস
লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোঃ হাবীব উল্লাহ ১৩ এপ্রিল মিসরাতা শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও সার্বিক কল্যাণ নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে মিসরাতার মেয়রের সাথে বৈঠক করেন।
মেয়র মাহমুদ আল-সাগুত্রির সাথে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মিসরাতা জেনারেল পাবলিক সার্ভিস কোম্পানির চেয়ারম্যান ও জেনারেল ম্যানেজার, লিবিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি এবং দূতাবাসের শ্রম বিষয়ক প্রথম সচিব উপস্থিত ছিলেন।
ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মেয়র আল-সাগুত্রি মিসরাতাকে লিবিয়ার অন্যতম নিরাপদ শহর হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, মিউনিসিপালিটি সকল বাসিন্দাকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। তিনি স্বীকার করেন যে বাংলাদেশি কর্মীরা শহরের সেবা খাত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন এবং মিউনিসিপালিটি তাদের অধিকার সুরক্ষায় সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান।
রাষ্ট্রদূত হাবীব উল্লাহ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য মেয়রকে ধন্যবাদ জানান এবং তাদের পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় আরও পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বৃহত্তর মিসরাতা অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র — স্থানীয়ভাবে 'বেতাকা' নামে পরিচিত — প্রদানের প্রস্তাব করেন, যা তাদের আইনি সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করবে। দূতাবাস এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।
দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, মেয়র আল-সাগুত্রি প্রস্তাবটি সাদরে গ্রহণ করেন এবং মিউনিসিপালিটির একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রদূত পাবলিক সার্ভিস কোম্পানিতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের চুক্তিগত বিষয়, বিশেষত বেতন রেমিট্যান্স আকারে প্রেরণ, কর্মঘণ্টা ও কর্মপরিবেশ নিয়েও আলোচনা করেন। উভয় পক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল করা, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হন এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাবলিক সার্ভিস কোম্পানির চেয়ারম্যান ও জেনারেল ম্যানেজার বৈঠকে জানান, বর্তমানে তাদের প্রতিষ্ঠানে শতাধিক বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন, যাদের নিরবচ্ছিন্ন কর্মসম্পাদন কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনায় অপরিহার্য। তারা লিবিয়ায় আসার আগেই কর্মীদের কাজের ধরন ও পরিবেশ সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।