মক্কায় তীব্র তাপপ্রবাহ: হজযাত্রীদের জন্য আইসক্রিম-ফ্যান-ঠান্ডা পানি
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, May 25, 2026
ছবি: সংগৃহীত
চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবের মক্কায় ভয়াবহ তাপপ্রবাহের মুখে পড়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো হজযাত্রী। দিনের বেলায় তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠছে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র।
তীব্র গরম থেকে হজযাত্রীদের সুরক্ষায় সৌদি কর্তৃপক্ষ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে মসজিদুল হারামের প্রাঙ্গণ ঠান্ডা রাখছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে বিশাল ফ্যান, মিস্ট স্প্রেয়ার এবং শীতল মেঝে স্থাপন করা হয়েছে।
ট্রাকে করে বিনামূল্যে ঠান্ডা পানির বোতল বিতরণ করা হচ্ছে। আইসক্রিমের স্টলগুলোতে হজযাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকে মসজিদের ছায়ায় বা ইনডোর গ্যালারিতে বিশাল ফ্যানের নিচে কার্পেটে শুয়ে নামাজের অপেক্ষা করছেন।
তবে এসব ব্যবস্থা সত্ত্বেও হিটস্ট্রোকের ঘটনা ঘটছে। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ইতোমধ্যে ১৪৪ জন হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৫০,০০০-এরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী এবং ৩,০০০ অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখা হয়েছে।
মিনা ক্যাম্পের হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জামিল আবুআলেনাইন হজযাত্রীদের পর্যাপ্ত পানি পান করা, ছাতা ব্যবহার এবং রোদে দীর্ঘক্ষণ না থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
মিশর থেকে প্রথমবার হজ করতে আসা চার সন্তানের মা ইনাস গামাল জানান, গরমের তীব্রতা তার কল্পনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ব্রিটেন থেকে আসা হজযাত্রী ইমাদ আহমেদ জানান, ক্রমাগত ঘামতে থাকায় তিনি প্রচুর পানি এবং লবণ ও খনিজ সমৃদ্ধ পানীয় পান করছেন।
আলজেরিয়ার উপকূলীয় শহর ওরান থেকে আসা অধ্যাপক মোহাম্মদ নাবিল জানান, প্রতিদিন ৩০,০০০ কদম হাঁটার পাশাপাশি মুখে পানি ঢেলে নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছেন তিনি। তার শহরে এখন তাপমাত্রা মাত্র ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
উল্লেখ্য, হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার সময় আরাফাতের ময়দানে অবস্থানসহ বেশিরভাগ আচার-অনুষ্ঠান খোলা আকাশের নিচে পালন করতে হয়, যেখানে ছায়ার ব্যবস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। গত বছর ২০২৪ সালে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে ১,৩০০-এরও বেশি হজযাত্রী প্রাণ হারান।
সূত্র: এএফপি