নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ উদ্বোধন
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, August 03, 2026
ছবি: মন্ত্রণালয়
নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান-ন্যাপ) ২০২৬-২০৩০ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছে বাংলাদেশ সরকার। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি (জিসিএম) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গৃহীত এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগী হিসেবে রয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
রোববার ঢাকায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ মাইগ্রেশন কমপ্যাক্ট টাস্কফোর্সের (বিএমসিটি) সহ-সভাপতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, আইওএমের সমন্বয়ে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আইওএম বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি প্রণয়নে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি। সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, আইওএমের উপ-মহাপরিচালক (অপারেশনস) উগোচি ড্যানিয়েলস, বাংলাদেশে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দ।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, চলতি বছরের ২১ মে মন্ত্রিসভায় জাতীয় কর্মপরিকল্পনাটি অনুমোদিত হয়। একই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন পর্যালোচনা ফোরাম (আইএমআরএফ) ২০২৬-এর ফলাফলও উপস্থাপন করা হয়, যেখানে বৈশ্বিক অভিবাসন কার্যক্রমে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অবদান তুলে ধরা হয়।
এ সময় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোক্তার আহমেদ জাতীয় কর্মপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক এবং আইএমআরএফ ২০২৬-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বক্তারা জাতীয় কর্মপরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক অংশীদার, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত এবং অভিবাসীদের মধ্যে টেকসই সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সরকার নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়নে অভিবাসনের ইতিবাচক অবদান আরও বাড়াতে এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে জিসিএম বাস্তবায়নে বাংলাদেশের নবায়নকৃত অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জাতীয় কর্মপরিকল্পনার মোড়ক উন্মোচন, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া, জিসিএম বাস্তবায়নে বাংলাদেশের যাত্রা, অর্জন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।