তৃতীয় টার্মিনালে দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের পরিকল্পনা
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Monday, April 27, 2026
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি আরেকটি আন্তর্জাতিক
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান
চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
আজ বেবিচক সদর দপ্তরে এভিয়েশন
অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের
সময় তিনি বলেন, “দ্বিতীয় অপারেটরটি সেবার মান আরও উন্নত করবে, এতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং
সেবায় প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে।”
তিনি আরও জানান, সুমিতোমো
কর্পোরেশনের নেতৃত্বাধীন জাপানি কনসোর্টিয়ামের কাছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি
দ্বিতীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নির্বাচন করার ক্ষমতা থাকবে।
২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তৃতীয়
টার্মিনালে দুই বছরের প্রাথমিক মেয়াদে একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এজেন্ট হিসেবে বিমানকে
দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল,
কারণ বিদেশি এয়ারলাইনগুলোর পক্ষ থেকে জাতীয় এয়ারলাইন্সের সেবার মান নিয়ে উদ্বেগ ছিল
এবং জাপানি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগের বিষয়টিও তখন বিবেচনায় ছিল।
তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কঠোর
পারফরম্যান্স শর্তের আওতায় অন্তর্বর্তী সরকার বিমানকে আবারও দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ
দেয়।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ শুধু
নিজেদের ফ্লাইট নয়, বরং বাংলাদেশে চলাচলকারী সব আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড
হ্যান্ডলিং সেবা প্রদান করে। এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১,০০০ থেকে ১,২০০ কোটি টাকা আয়
করে প্রতিষ্ঠানটি।
তবুও যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা
প্রায়ই সেবার মান, বিশেষ করে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে বিলম্ব ও অদক্ষতার অভিযোগ করে আসছে।
যদিও ঢাকা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাগেজ ডেলিভারির
সময় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
বেবিচক চেয়ারম্যান জানান,
তৃতীয় টার্মিনালের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্সের জন্য জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি
দেশের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করবে। তিনি বলেন, “চুক্তিটি হবে ন্যায্য। জাতীয় স্বার্থ
রক্ষায় যা যা প্রয়োজন আমরা নিশ্চিত করব। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে নয় দফা আলোচনা হয়েছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী
কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে, যদিও আলোচনায় কিছু বিষয় এখনও সমাধান
হয়নি।
টার্মিনাল চালুর সময়সূচি নিয়ে
তিনি জানান, আলোচনা শেষ হওয়ার পর চুক্তি স্বাক্ষরে অন্তত তিন মাস লাগবে এবং এরপর ছয়
মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত টেস্ট রান চলবে। সেই পরীক্ষামূলক চালুর প্রায় ছয় মাস পর আংশিকভাবে
তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার আগামী
১৬ ডিসেম্বর টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি
চলছে।
দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে
থাকার কারণে টার্মিনালে স্থাপিত যন্ত্রপাতির বিষয়ে তিনি জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান
ADC ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের আশ্বাস দিয়েছে এবং ২০২৭ সালের
জুন পর্যন্ত মৌখিকভাবে সহায়তা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে এটিজেএফবি সভাপতি
তানজিম আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব-সহ সংগঠনের সদস্য ও বেবিচক কর্মকর্তারা
উপস্থিত ছিলেন।