ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচারের অভিযোগে বিমান কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
ডেস্ক রিপোর্ট
| Published: Tuesday, June 16, 2026
জাল শেনজেন ভিসা ব্যবহার করে ইতালিতে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের অভিযোগে মোহাম্মদ আখলাছুর রহমান নামে বাংলাদেশ বিমানের এক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির টিএইচবি (মানব পাচার প্রতিরোধ) ইউনিট ১৬ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানা এলাকার নিলক্ষীয়া বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি ইউনিট থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আখলাছুর রহমান (৪০), পিতা- মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম মন্ডল, মাতা- মালেকা বেগম। তার সাং- স্থায়ী ঠিকানা- বকশীগঞ্জ, জামালপুর এবং বর্তমান ঠিকানা- আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা।
মোহাম্মদ আখলাছুর রহমান বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সে জুনিয়র অফিসার, গ্রাউন্ড সার্ভিস, আইএনএস গেইট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মামলাটির এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে মানব পাচার চক্রের ০২ সদস্যের সাথে জনপ্রতি ৩০ লক্ষ টাকার চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা জনপ্রতি ২০ লক্ষ টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে চক্রটি তাদের নেপালগামী ও ইতালিগামী বিমান টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ইতালির শেনজেন ভিসা সরবরাহ করে।
গত ২৬ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে ভুক্তভোগীরা বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ইতালির রোম ফিউমিচিনো লিওনার্দো দা ভিঞ্চি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্টে সংযুক্ত শেনজেন ভিসা পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করে। পরে তাদের আটক করে ০২ দিন হেফাজতে রাখা হয় এবং ২৮ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বাংলাদেশে ফেরার পর ইমিগ্রেশন পুলিশ, সিআইডি, ও অন্যান্য সংস্থা কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তদন্তে প্রতীয়মান হয় যে, মানবপাচারকারী চক্রটি বিদেশে বৈধ কর্মসংস্থানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাল ভিসা সরবরাহের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তীতে এ সংক্রান্তে বিমানবন্দর (ডিএমপি) থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়।
মামলাটি তদন্তকালীন সিআইডির টিএইচবি ইউনিট নিবিড় তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আখলাছুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় এবং তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ও অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির টিএইচবি ইউনিট। এ প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে মানবপাচার, জাল ভিসা, অভিবাসী চোরাচালান কিংবা এ ধরনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সিআইডি।